কিছু অসহায় মানুষের জীবন চিত্র

বাংলাদেশের নদী বন্দরগুলোর মাঝে ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট অন্যতম। বুড়িগঙ্গা নদীর বুকে এ বন্দর অবস্থিত।এ নদী বন্দরকে ঢাকার প্রবেশদ্বারও বলা হয়। প্রতিদিন কয়েক'শ যাত্রী ও মালবাহী লঞ্চ এ নদী বন্দর হতে দেশের বিভিন্ন স্থানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।হাযার হাযার মানুষ কর্মসংস্থান ও নানা কারনে লঞ্চযোগে ঢাকা এসেই এ বন্দরে অবতরন করেন। দিনের শেষে রাতের গভীরতা যতই বাড়তে থাকে, চারপাশ ততোই নীরব হতে থাকে। একসময় চারপাশে নেমে আসে অসীম নিরবতা। এ নদীবন্দরও এক সময় শান্ত হয়। যখন থাকেনা যাত্রী আসা- যাওয়ার ব্যস্ততা, যা নিজ চোঁখে না দেখলে বিশ্বাসই হতে চায় না। এখানে গভীর রাতের পরিবেশ একেবারেই ভিন্ন। কিছু টোকাই, ভিক্ষুক ও বাস্তুহারা মানুষের একমাত্র আবাসস্থল এই টার্মিনাল। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে ওরা একটু বিশ্রামের বন্দোবস্ত করে এই টার্মিনালে। খাট,পালঙ্ক,লেপ, তোষক,চাদর,কিংবা বালিশ ছাড়াই এদের শোবার আয়োজন। কেউ একটি ইট মাথার নিচে দিয়ে, কেউবা শুধু মাটিতে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে। এদের কারো গায়ে ছেড়া শার্ট- কেউবা খালি গায়ে, কেউ ছেড়া কাথা গায়ে- কেউ আবার শীতে কাঁপে থরোথরো।ওদের নিদ্রামগ্ন নিস্পাপ চেহারার দিকে এক নজর তাকালে মন কেড়ে নেবে না, এমন মানুষ পৃথিবীতে নেই। ধুলো বালি ছড়ানো টার্মিনালের এককোনে ঘুমাতে ওদের কোন দ্বিধা নেই। ওদের মাঝে নেই কোন জায়গা দখলের প্রতিযোগিতা। যে যেখানে পারছে সেখানেই করছে শোবার আয়োজন। ওদের দিকে তাকালে মনে হয় সবাই হয়তো একই পরিবারের সদস্য। ওদের জীবনে কি তবে কোন উচ্চাকাংখা নেই। নেই কি ওদের জীবনে স্বাদ- আহলাদ। কিন্তু কে দেখে ওদের চাওয়া পাওয়া, কে বুঝে ওদের চাহিদা।এদের অনেই হয়তো অনাহারে অথবা অর্ধাহারে দিন কাটায়। এ রকম অনেক দম্পত্তি সিড়ির তলায়, গাছের তলায়,পার্কের বেঞ্চে দিনকাটায়। এদের দেখে সুশীল সমাজের কি একটুও মানবতা বোধ হয় না। ওরাএতো হতে পারতো আপনার ও আমার ভাই বোন বান্ধু বা নিকটআত্মিয়।

Comments

জনপ্রিয় পোস্ট

ডেটা সায়েন্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI): প্রযুক্তির ভবিষ্যত ও ক্যারিয়ার সম্ভাবনা