ব্যার্থ প্রেমের গল্প পার্ট-১

সতেরো জানুয়ারী দুই হাজার নয় ইং সকাল নয়টা সতেরো মিনিট চল্লিশ সেকেন্ড মোবাইলটা বেজে উঠল,দোকানে এসে বসেছি মাত্র এমন সময় অপরিচিত নাম্বারের ফোন বেশ বিরক্তিকরই মনে হচ্ছিল। মনে হওয়ারও কারন আছে এ পরিবেশে আমি ছিলাম একদম নতুন।মাত্র তিনদিন হয় এ দোকানে এসেছি।যাহোক কলটা রিসিভ করে সালাম দিলাম, অপর প্রান্ত থেকে একটা সুরেলী মেয়ে কন্ঠে সালামের উত্তর দিল।মনেহল কন্ঠটা আমার চীর চেনা কিন্তু আচ করতে পারলাম না কার। তুই কেমন আছিস? জানতে চাইলো।একটা অপরিচিত মেয়ে তুই বলে সম্ভোদন কেমন যেন মনে হল।আমার পরিবারের মানুষ আর বন্ধুবান্ধব ছাড়াতো কেউ তুই বলে ডাকে না।দ্বিধা দন্দের মাঝে পড়ে গেলাম এবং উত্তর দিলাম ভাল।জানতে চাইলাম আপনি কে? রহস্যময়ী তার পরিচয় দিতে চাইলেন না।দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা থাকায় কারনে জোর দিয়ে কিছু বলতেও পারলাম না। সে যে আমার পূর্ব পরিচিত কেউ এটা স্পষ্ট বুঝতে পারলাম এবং এ ও বুঝতে পারলাম সে মজা করছে। তবে চেষ্টা করলাম তার পরিচয় জানার।কিছুক্ষন কথা বলে পরিচয় উদ্ধার করতে না পেরে ফোন রেখে দিলাম।মনে মনে ভাবলাম যে মজা করতে চায় তাকে মজা করতে দেয়া যাক, দেখিনা পরে কি হয়।তবে মন থেকে ব্যাপারটা কিছুতেই সরাতে পারলাম না।স্বাভাবিক ভাবেই কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলাম। ঘন্টা দুয়েক পর বন্ধু বিল্লালের ফোন আসে।রিসিভ করার পর কুশল বিনিময়ের পর বলল,খুশির খবর আছে মিষ্টি খাওয়াতে হবে।মনটা অজানা আনন্দ,বেদনা,নাকি বিস্ময়ে ভরে উঠলো তা বলতে পারবো না।সকালে অপরিচিত নাম্বারে ফোন,এখন খুশির খবর ও মিষ্টির একটা অলিখিত যোগসূত্র মনের মাঝে বারবার ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছিল।কে ফোন করেছিল তারও একটা ধারনা ইতোমধ্যে পেয়ে গেছি,যদিও বিল্লাল কিছু বলে নি।কন্ঠটা বেশ পরিচিত মনে হয়েছিল কিন্তু ও হবে তা ধারনা করতে পারিনি।যে দীর্ঘ সাত বছরে একটি বারও যোগাযোগের কথা ভাবেনি সে আজ ফোন করেছে ভাবতে বেশ অবাক লাগলো।আমিতো গিয়েছিলাম তাদের বাড়িতে কিন্তু সেইতো কথা বলেনি।অনেক চেষ্টা করেও কথা বলাতে পারিনি।সে কিনা আজ ফোন করে পরিচয় গোপন করে মজা করছে।বেশ মজার ব্যাপার।যাহোক বিল্লালকে বললাম তোকে কি মিষ্টি খাওয়াই নি? সে ও আস্বীকর করলনা।সে বলল একজন তোর নাম্বার টা নিয়েছে হয়তো ফোন করবে।দেখ সে এত বছর পরও তোকে মনে রেখেছে।

Comments

Post a Comment


জনপ্রিয় পোস্ট

ডেটা সায়েন্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI): প্রযুক্তির ভবিষ্যত ও ক্যারিয়ার সম্ভাবনা