বৈশাখে মোবাইল চুরি
পহেলা বৈশাখ ১৪১৭ সাল: সকাল বেলা একটু আগেই ঘুম থেকে জেগে উঠলাম।তখনো সবাই ঘুমিয়ে আছে। নতুন বছরের প্রথম দিনের সকাল,ভাবতেই মনটা এক অজানা আনন্দে ভরে উঠলো।পিছনের জীর্নতা ছেড়ে নতুন বছরে জীবনটাকে নতুন করে সাজানোর একটা বাসনা মনের মাঝে ঘোরপাক খাচ্ছে।সবাইকে ঘুম থেকে ডেকে তুললাম এবং বাহিরে যাবার জন্য প্রস্তুতি নিতে লাগলাম।সবার আগেই নাস্তা করতে বসলাম,নাস্তা বলতে পান্তা-ইলিশ।ভাবি মধ্যরাতে গরম ভাত রেধে ওগুলো তে পানি দিয়ে রেখেছে।ঐতিহ্য বলে কথা,বছরে মাত্র একটা দিন ধনী- গরির সবাই পান্তা নিয়ে কারাকারি। ছোটবোনটাকে ডেকে বললাম তারাতারি খেতে আয়, পান্তা তো পচে যাবে।যাহোক জনির সাথে আগেই ফোনে কথা হয়েছে যে সারাদিন একসাথে ঘুরবো।যথাসময়ে বাসা থেকে বের হলাম।ভিক্টোরিয়া পার্ক এসে দেখি প্রতিক হাসানের কনসার্ট হচ্ছে।গান শোনার মায়া ত্যাগ করে আগে পল্টন যেতে হবে,ওখানে জনি অপেক্ষা করছে।যাহোক গিয়ে জনিকে খুজে বের করলাম।ওকে বললাম নাস্তা করেছিস।ও বললো আরে বেটা জানিস না, নাস্তা করতে গিয়ে এক মজার ঘটনা।আমি একটু দেরিতে ঘুম থেকে উঠেছি, উঠে দেখি সবাই ঘুরতে চলে গেছে।আমি রেডি হয়ে নাস্তা করবো এখন কিছু খুজ পাচ্ছি না। ফ্রিজ খুলে দেখি ইলিশ মাছ মসলা দিয়ে সাদাভুনা করে রেখেছে, সাথে গরুর মাংস রেধেছে।এমন সময় তন্নীর ফোন।ফোনে ওর সাথে কথা বলছি, আর প্লেটে খাবার নিয়ে খাওয়া শুরু করলাম।সেকি দেখি ইলিশ মাছ ভাঙ্গে না, তাই কামড় দিয়ে ছিড়তে গেলাম দেখি কাঁচা।কি আর করা গরুর মাংসই শেষ ভরসা।একথা নিয়ে হাসলাম বেশ কিছুক্ষন,ততোক্ষনে রমনার সামনে চলে এসেছি।জনি বললো চল সোহরাওয়ার্দিতে ঢুকি। ঢুকে দেখলাম কাঠের তৈরী তরোয়াল(অসি) বিক্রি করে।জনি আনকমন জিনিস বলে একটা নিল।একটু এগিয়ে গিয়ে আমি নিলাম একটা একতারা আর জনি নিল খঞ্জনী।আমি একতারা বাজাচ্ছি আর জনি বাজাচ্ছে খঞ্জনী।আমরা অনেকের সাথে নাচ ও গানে অংশগ্রহন করলাম।মাঝে মাঝে হালকা খাওয়া দাওয়া ও চলছিল। সবার সাথে আনন্দ উল্লাসে যোগ দিয়ে বেশ ভালোই লাগছিল। আমরা চারুকলা ঢুকলাম এবং সেখানে একদল বড়ভাইদের সাথে লালনগীতি শুনলাম, মাঝে মাঝে আমরাও গাইছিলাম।শেষে চারুকলার ভিতর থেকে ঢোলের বাদ্যের সাথে নাচে অংশগ্রহন করলাম। জনি বললো চল রমনার দিকে যাই।রমনা গিয়ে কনসার্ট দেখলাম কিছুক্ষন এবং বসে কিছু গল্প করলাম। জনি তন্নির সাথে মোবাইলে কথা বলছিল,সেই ফাকে আমি লুবনার সাথে ফোনে কথা বলে নিলাম।অনেকক্ষন লুবনার সাথে কথা বলার পর, আমিও তন্নীর সাথে কথা বললাম। কথা বলা শেষে জনিকে বললাম চল আজ বাহিরে লাঞ্চ করি, জনিও এতে রাজি হলো।বলতে বলতে আমরা রমনার দক্ষিন- পূর্ব কর্নারের গেইট দিয়ে বাহির হলাম।জনি তার মোবাইলটা ওর পাঞ্জাবির পকেটে রাখলো।শিল্পকলা একাডেমির গেটের সামনে কতকগুলি যুবক মিলে লোকজনদের আহবান করছে তাদের দোকান থেকে কিছু কিনতে। একটি ছেলে জনিকেও জড়িয়ে ধরে বললো মামা এতো সুন্দর তরোয়াল কোথা থেকে কিনসেন, খুব পছন্দের জিনিস, আসেন আমাদের দোকান থেকে একটা টাইগার নিয়ে যান।জনি ওদের কথা শুনে একটা টাইগার কিনলো। শিল্পকলা একাডেমির এরিয়া এখনো পার হইনি জনি পকেটে হাত দিয়া বললো- আমার মোবাইল কই? সব পকেট খুজে নিশ্চিত হলাম মোবাইল নাই। চার থেকে পাচ মিনিট আগে কথা বলে পকেটে রেখে, এখন নাই। আর কি করা? অবশেষে চলে গেলাম লাঞ্চ করতে। সারাদিন বেশ মজা করেছি তবে ওর মোবাইলটার কথা মনে হলে বেশ কষ্ট লাগে।
Comments
Post a Comment